Skip to main content

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নাট্যচর্চা - মুহাম্মদ আল ইমরান।



সাহিত্যের অন্যান্য শাখার মত নাটকও একটি তাৎপর্যপূর্ণ শাখা। পৃথিবীর নাটকের ইতিহাস, ভারতীয় নাটকের ইতিহাস, দেশজ নাটকের ইতিহাস ইত্যাদি নিয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জিত হয় নাট্যকলায়। নাট্য, নাটক, নট, নটী এই সকল শব্দের মূলে রয়েছে নট্। নট্ মানে নড়াচড়া করা। আর নাট্যের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Drama. যা গ্রিক Dracin থেকে এসেছে। এর অর্থ To Do কিংবা কোন কিছু করা। অন্যদিকে কলা কথাটির একাধিক অর্থ থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে প্রধানত দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রথমত দক্ষতা, পারদর্শিতা ও কর্মপটুতা অর্থে এবং দ্বিতীয়ত জ্ঞানের প্রয়োগ সম্পর্কিত ধারাবাহিক জ্ঞানকে বোঝায়। বাংলাদেশে নাট্যকলার অ্যাকাডেমিক যাত্রা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে হলেও এর তাত্ত্বিক গ্রন্থ বা নাট্যকলার দর্শনশাস্ত্র ভরত ও দার্শনিক এরিস্টটল এর সময়কাল থেকে প্রয়োগ হয়ে আসছে। নাট্য নির্মাণে, অভিনয়ে ও রচনায় যেমন প্রায়োগিক জ্ঞানের প্রয়োজন আছে তেমনি তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব রয়েছে। ভরতমুনির "নাট্যশাস্ত্র" কিংবা এরিস্টটলের "কাব্যতত্ত্ব"(Poetics) উভয় তাত্ত্বিক জ্ঞান বাদ দিলে নাট্যশিক্ষা স্থবির হয়ে যাবে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের উক্ত দুই গ্রন্থ উভয় অঞ্চলের নাট্যকলা তথা শিল্পকলা অধ্যয়নের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা সূচনা করেছে।


এই লেখায় বাংলাদেশে একাডেমিকভাবে নাট্যচর্চায় স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। দেশের ৬টি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ প্রচলিত আছে। তবে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, তেজগাঁও কলেজ সহ বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাট্যকলা বিভাগ বা সাবজেক্ট আছে। তবে এটা সংখ্যায় সীমিত। দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে নাটকের পাণ্ডুলিপি যুক্ত আছে। কিন্তু নাট্যশিক্ষক ও গবেষকরা মনে করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নাট্যকলা বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত যেতে পারে। দেশের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের নাম- নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ(জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), নাট্যকলা বিভাগ(চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), নাট্যকলা বিভাগে(রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), নাট্যকলা বিভাগ(জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ(জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়)। নিম্নের পর্যায়ক্রমে আলো চনা করা হলো-

১. নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়(জাবি):

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়(জাবি)-তে ৩৬টি বিভাগ এবং চারটি ইনস্টিটিউট সহ ছয়টি অনুষদ রয়েছে। যার মধ্যে কলা ও মানবিকী অনুষদভুক্ত মোট ৯টি বিভাগ রয়েছে।(আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, দর্শন বিভাগ, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, বাংলা বিভাগ, জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ‍বিভাগ ও চারুকলা বিভাগ)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পর নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ চালু হয়। "১৯৮৭ সনের ১১ জুলাই স্নাতক সম্মান শ্রেণীর ক্লাশ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নাট্যচর্চার উদ্বোধন হয়।" তাই বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক নাট্যচর্চার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কয়েকজন তরুণ ১৯৭৩ সালের ২৯ জুলাই প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা থিয়েটার। আর ঢাকা থিয়েটারের কর্মী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দুই শিক্ষক সেলিম আল দীন(১৮ আগস্ট, ১৯৪৯ - ১৪ জানুয়ারি, ২০০৮) ও আফসার আহমদের(৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯ - ৯ অক্টোবর, ২০২১) প্রচেষ্টায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ বিভাগটির বাস্তবায়ন হয়। প্রায় ৪০ বছরের পরিক্রমায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতির অধ্যয়ন ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে এই বিভাগের শত শত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের স্নাতক সম্মান কোর্সের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের  নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ভাষ্য- ”বিশ্ব থিয়েটারের ধারায় সমকালীন চাহিদা বিচারপূর্বক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নাট্যশিল্পী, নাট্যতাত্ত্বিক ও গবেষক তৈরির উদ্দেশ্যে নাট্য বিষয়ে আধুনিক ও বিস্তৃত পাঠদান, বাংলা নাট্যের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে বিশ্বনাট্যে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উপস্থাপন, প্রাচ্য - পাশ্চাত্য ও বাঙালির নিজস্ব নাট্য ভাবনার আলোকে 'থিয়েটার', 'পারফরমেন্স', 'ড্রামা', 'নাট্য' ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা ও ধারণাগত বিশ্লেষণ, সমকালীন সৃজনশীল নাট্যচর্চার পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নাট্য ঐতিহ্যের অন্বেষণ, বিশ্ব থিয়েটারের রূপ-রীতির সঙ্গে বাংলাদেশের থিয়েটারে তুলনামূলক পাঠদান এবং বিশ্বের সমকালীন নিরীক্ষামূলক থিয়েটার চর্চাকে গুরুত্বের সাথে পাঠদান এই বিভাগের লক্ষ ও উদ্দেশ্য।”


১ম পর্ব স্নাতক(সম্মান) শ্রেণীর পাঠ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিশ্ব নাট্যের ইতিহাস (প্রাচীন ও মধ্যযুগ), বাংলা নাট্যের ইতিহাস (৬৫০-১৭৫০), নট্যতত্ত্ব ও নাট্যপ্রকরণ পরিচিতি, সৃজনশীল রচনা-১, ইংরেজি ভাষা, অভিনয় প্রস্তুতি, স্বর-প্রক্ষেপণ ও বাক্‌শৈলী, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য পরিবেশনারীতি ইত্যাদি কোর্স সমূহ। ২য় পর্ব স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর পাঠ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- পাশ্চাত্য নাটকের ইতিহাস (আধুনিক যুগ), সৃজনশীল রচনা- ২, আধুনিককালের বাংলা নাটক (নির্বাচিত), মঞ্চ-পরিচিতি ও আলোক পরিকল্পনার ইতিহাস, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, দৃশ্য পরিকল্পনা ও দৃশ্য উপকরণ- ১, নৃত্য ও কোরিওগ্রাফি-১, পাঠ অভিনয়, নাট্য প্রযোজনা-১, অভিনয়ের বিভিন্ন কৌশল ও পদ্ধতি ইত্যাদি। ৩য় পর্ব স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর পাঠ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- গ্রেকো-রোমান নাটক, পাশ্চাত্য নাটক-১, নাটক, প্রাচীন ও মধ্যযুগের নাট্যতত্ত্ব, বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী নাট্য, অভিনয় ও নির্দেশনা তত্ত্ব, শিল্পকলার ইতিহাস, চলচ্চিত্র পাঠ, দৃশ্য পরিকল্পনা ও দৃশ্য উপকরণ- ২, নৃত্য ও কোরিওগ্রাফি-২, রূপসজ্জা পরিকল্পনা, নাটকে সঙ্গীত ও নাট্য প্রযোজনা-২ ইত্যাদি। ৪র্থ পর্ব স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর পাঠ্য বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- ধ্রুপদী সংস্কৃত নাটক, পাশ্চাত্য নাটক-২, বিশ শতকের বাংলা নাটক, অভিনয়তত্ত্ব, নন্দনতত্ত্ব, সেলিম আল দীনের নাটক, নাট্য নির্দেশনা তত্ত্ব, নাটক রচনার শিল্প কৌশল, পোশাক পরিকল্পনা, আলো- শব্দ ও সঙ্গীত পরিকল্পনা, রেডিও ও টেলিভিশন নাটক প্রযোজনা। উল্লেখ্য যে স্নাতক (সম্মান) ৪র্থ পর্বের নিম্ন কোর্স সমূহ শিক্ষার্থী নিজ পছন্দ মত নিতে পারবে- শিক্ষায় থিয়েটার, উন্নয়ন নাট্য, বিজ্ঞাপন ও নাটক, গণযোগাযোগ ও নাটক, থিয়েটার এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ ও পুতুল নাট্য ইত্যাদি। স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে নির্দেশনা গ্রুপ ও অভিনয় গ্রুপের ছাত্র-ছাত্রী গণ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নিজেদের নির্দেশনায় স্ব স্ব প্রযোজনা উপস্থাপন করে।

বিভাগের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনাসমূহ হলো- ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে 'দেওয়ানা মদিনা' (নির্দেশনা সেলিম আল দীন), রবীন্দ্রনাথের 'রাজা' (নিদের্শনা আফসার আহমদ/রশীদ হারুন), ক্রিস্টোফার মার্লো রচিত 'ডক্টর ফস্টাস' (নিদের্শনা রশীদ হারুন), সেলিম আল দীনের 'কেরামতমঙ্গল' ও 'কীত্তনখোলা', আফসার আহমদ নির্দেশিত 'মা.চ ক্যান', রবীন্দ্রনাথের 'অচলায়তন' (নির্দেশনা সাজ্জাদ আহসান), মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'সধবার একাদশী' (নির্দেশনা সেলিম আল দীন), সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস 'কাঁদো নদী কাঁদো' (নির্দেশনা সেলিম আল দীন), শম্ভু মিত্রের 'চাঁদ বণিকের পালা', রবীন্দ্রনাথের 'গীতায়ণ', 'বিসর্জন' ও 'চিত্রাঙ্গদা' (নির্দেশনা ইউসুফ হাসান অর্ক), শূদ্রকের 'মৃচ্ছকটিক' (নির্দেশনা রশীদ হারুন), মধুসূদন দত্তের 'শর্মিষ্ঠা' (নির্দেশনা রশীদ হারুন), 'আলংনাবাহ' (নির্দেশনা আফসার আহমদ), বড়ু চণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' (নির্দেশনা আফসার আহমদ), আর্থার মিলারের 'ডেথ অফ এ সেলসম্যান' (নির্দেশনা সাজ্জাদ আহসান)।

প্রকাশনা: থিয়েটার স্টাডিজ।


২. নাট্যকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়(চবি) চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের তৃতীয় সরকারি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষাঙ্গণ আয়তনের দিক থেকে এটি দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পূর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার (১৪ মাইল) উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার ২৩১২.৩২ একর পাহাড়ি এবং সমতল ভূমির উপর অবস্থিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের অধীনে ১২টি বিভাগ ও ৩টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। যেগুলো হলো- বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, দর্শন বিভাগ, ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, আরবি বিভাগ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, পালি বিভাগ, সংস্কৃত বিভাগ, সঙ্গীত বিভাগ ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগ ইত্যাদি।

স্বাধীনতা পূর্বে ১৯৬৯ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বাংলা বিভাগে নাট্যতত্ত্বের শিক্ষক হিসাবে জিয়া হায়দারের যোগদানের মধ্যে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে প্রাতিষ্ঠানিক নাট্যশিক্ষার সূচনা হয়েছিল। মূলত তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নাট্যসাহিত্যের বিশ্লেষণে নাট্য তত্ত্বের প্রয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তাত্ত্বিক বিষয়ে পাঠদান করতেন। “১৯৭০ সালে যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন জিয়া হায়দার নাট্যকলা শাখার শিক্ষক হিসাবে সেই বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন এবং বিদ্যায়তনিক নাট্যশিক্ষার জন্য একটি স্বতন্ত্র পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করেন।”১ যা প্রধানত ছিল তাত্ত্বিক। তখন চারুকলা বিভাগের চিত্রকলা শাখার শিক্ষার্থী ছাড়া নাট্যতত্ত্বের সেই কোর্স ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে পড়তে পারতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ একটি কোর্স হিসেবে নাট্যকলা বিষয় প্রথম যুক্ত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তবে ঐ সময়ে স্বতন্ত্র বিভাগ তৈরি হয় না। ১৯৯১-৯২ শিক্ষা বর্ষে নাট্যকলায় প্রাতিষ্ঠানিক নাট্যশিক্ষার স্নাতক কোর্স চালু করা হয়। তখন জিয়া হায়দার ও কামাল উদ্দিন নীলুর সাথে তখন শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর রহমত আলী। আর একজন শিক্ষক প্রয়াত মুর্তজা বশীর চারুকলা বিভাগের অন্যতম শাখা চিত্রকলার শিক্ষক হলেও নাট্যকলা শাখার শিক্ষা বিস্তারে এবং নাট্যকলার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ নিশ্চিত করতে বরাবরই ছিলেন সচেষ্ট। নাট্যকলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক জিয়া হায়দারের সাথে ছিল গভীর সখ্যতা। কর্ম জীবনে ২ জনই পাশাপাশি কক্ষে বসে বিভাগীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। নাট্যকলা শাখার শিক্ষার্থীদের পারস্পেক্টিভ, কালার, লাইন, ও ডিজাইনের নানান তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিষয়ে তিনি হাতেকলমে শিক্ষা দিতেন। পরবর্তী নাট্যকলা শাখার অধীনে ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষা বর্ষে চালু হয়েছিল স্নাতকোত্তর কোর্স। প্রাপ্ত তথ্যমতে- ”১৯৯০ পরবর্তী সময়ে(উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে- ১৯৯৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর) নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের অধীনে নাট্যকলা বিষয় ১৯৮৯ সালে, সঙ্গীত বিষয় ১৯৯৩ শিক্ষাবর্ষে সাবসিডিয়ারি কোর্স এবং ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষ হতে নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিষয়ে এমএ (প্রিলিমিনারি) কোর্স চালু হয়। ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ হতে নাট্যকলা বিষয়ে এম. ফিল. কোর্স চালু হয়। ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ হতে ৪ বছর মেয়াদি বি. এ. অনার্স কোর্স চালু হয়। ১৯৯৮ সালে নাট-মন্ডল নামে বিভাগের একটি মিলনায়তন প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা - ১২: পরিবেশনা শিল্পকলায় বলা হয়- “জিয়া হায়দারের অবসরগ্রহণ, শিক্ষক-সংকটসহ অদৃশ্য ও অ-উন্মোচিত কারণে ১৯৯৯-২০০০ সাল থেকে নাট্যকলা বিষয়ে ভর্তি কার্যক্রম আর দৃশ্যমান হয়নি।“২

দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগকে এক করে 'ইন্সটিটিউট অফ ফাইন আর্টস' করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর, রোববার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ এর সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের সভায়। ”বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভার প্রতিবেদন ও প্রশাসনিক তথ্য থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের দাবিতে ১৯৯৯ সালের ১১ মার্চ তৎকালীন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে একটি গেজেট প্রকাশ করে। ঐ সময় এর বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ বাদী হয়ে মামলা করেন। ফলে এ প্রক্রিয়া থমকে যায়।”৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত Applied Theatre practice & Field work কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেরাপিউটিক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের (বিটিটিআই) পরিচালনায় তিন দিনব্যাপী কর্মশালায় এম.এ (চূড়ান্ত), শিক্ষাবর্ষ -২০২০-২০২১ এর ২১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যাতে নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি শাকিলা তাসনিম সমাপনী বক্তব্যে বলেন- “নাট্যকলা বিভাগ পাঠ্য ও মাঠ গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন নাট্য, নাটকের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের উপর কর্মশালার আয়োজন ও মাঠ গবেষণা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় থেরাপিউটিক থিয়েটার কর্মশালার আয়োজন।”৪

বিভাগের সচলতার যুগে যে সকল নাটক মঞ্চস্থ হয়- আন্তন চেখভের 'ম্যারেজ প্রপোজাল', মুনীর চৌধুরীর 'জমা-খরচ', সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরুলদীনের সারাজীবন', সাঈদ আহমদের 'তৃষ্ণায়', মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ', সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'বহিপীর', আব্দুল্লাহ আল মামুনের 'এখনো দুঃসময়' প্রভৃতি নাটক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ ২০১৯ সালে আয়োজন করে "শরৎ নাট্যোৎসব" এর। যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, নাটক: "রাষ্ট্র বনাম", রচনা- মামুনুর রশীদ, নির্দেশনা- মোঃ তানবীর হাসান, স্থান- উন্মুক্ত মঞ্চ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, নাটক: "ক্যাপ্টেন হুররা", রচনা- মোহিত চট্টোপাধ্যায়, , নির্দেশনা- শামীম হাসান, স্থান- উন্মুক্ত মঞ্চ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, নাটক: " ব্যাঙ ", রচনা- এরিস্টোফেনিস, অনুবাদ- কবীর চৌধুরী, নির্দেশনা- শামীম হাসান, স্থান- উন্মুক্ত মঞ্চ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পরে "শরৎ নাট্যোৎসব" এর ২য় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে- ১লা অক্টোবর মঞ্চায়িত হয় ব্যাঙ নাটক, নাট্যকার এরিস্টোফেনিস, নির্দেশনা শামীম হাসান, ২রা অক্টোবর মঞ্চায়িত হয় রাষ্ট্র বনাম নাটক, নাট্যকারঃ মামুনুর রশিদ, নির্দেশনাঃ তানভীর হাসান মিঠুন, ৩রা অক্টোবর মঞ্চায়িত হয় ক্যাপ্টেন হুররা নাটক, নাট্যকারঃ মোহিত চট্টোপাধ্যায়, নির্দেশনাঃ শামীম হাসান। সকল নাটক মঞ্চায়িত হয় শিল্পকলার অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা ৭ টায়। সকলে নাটক শুরুর আগে টিকেট সংগ্রহ করতে হত কাউন্টার থেকে।৫

৩. থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালে তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ১ জুলাই থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৩টি অনুষদ, ৮৩টি বিভাগ, ১৩টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। যার মধ্যে কলা অনুষদে রয়েছে  থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। যা ১৯৯৪ সালে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নাট্যকলা ও সংগীত বিষয়ে পাঠদান চলমান থাকে। ২০০৯ সালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তারিখে অর্থাৎ ১ জুলাই থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ(নাট্যকলা বিভাগ) সংগীত বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে থিয়েটার বিভাগ নামে। পরে আবার নাম পরিবর্তন করে ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল বিভাগের নাম থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ রাখা হয়। যা বর্তমানেও এই নামে রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং পরে ১৯৯৪ সালে ‘নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষাদান সম্পন্ন হয়।  ”১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারে যে সকল বিষয় পড়ানো হয়- Introduction to Theatre and Performance, Bangladesh Studies, a) Training the Physical Apparatus: Speech, Music, Dance and Yoga/Acrobatics b) Improvisation and Theatre Games, a) Tragedy b) Performing Tragedy, Tutorial and Participation and Oral. ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টারে যে সকল বিষয় পড়ানো হয়- Introduction to Scenography for Theatre and Performance, Fundamentals of Information and Communication Technology, a) Training the Physical Apparatus: Speech, Music and Dance, Mime b) Improvisation and Theatre Games, a) Comedy b) Performing Comedy, Tutorial and Participation and Oral.

২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারে যে সকল বিষয় পড়ানো হয়- Marga-natya Texts and Critical Tools, Abhinaya, Scenography (Prakkhagriha Lakshan and Aharjaabhinaya), Performing Marga- natya, Tutorial and Participation and Oral. ২য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারে যে সকল বিষয় পড়ানো হয়- Lokadharmi Texts and Critical Tools, Kaya-sadhana, Scenography [Asar Porikolpana and Khetra- somikkha (Scenography and Ethnography)], Performing deshoja-natya, Tutorial and Participation and Oral.

৩য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারে যে সকল কোর্স রয়েছে- European Theatre: Realism, Naturalism, Symbolism, Expressionism, European Theatre: 1920s- 1970s, Scenography, Acting Theory and Practicum: Stanislavski, Students' Presentation on European Theatre, Tutorial and Participation and Oral. ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারে যে সকল কোর্স রয়েছে- Bangla Theatre (Colonial), Bangla Theatre (Post-colonial), TV Drama, Applied Theatre and Performance: Theatre for Development (TfD), Students' Presentation on Bangla Theatre, Tutorial and Participation and Oral. As Elective Course- African Theatre, Peking Opera, Noh and Kabuki Theatre.

৪র্থ বর্ষ ১ম সেমিস্টারে যে সকল কোর্স রয়েছে- Theatre Making Principles, Basics of Playwriting, Applied Theatre and Performance: Theatre in Education (TiE), Psychology of Theatre, Acting practicum: Brecht, Tutorial and Participation and Oral. ৪র্থ বর্ষ ২য় সেমিস্টারে যে সকল কোর্স রয়েছে- Theatre Making Practicum, Performance Theory, Research Methodology for Theatre, Theatre Business and Performance Event Management, Sociology of Theatre, Tutorial and Participation and Oral. As Elective Course- Theatre and Intermediality, Digital Content Creation.”৬


বিভাগটি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিএ অনার্স, এমএ ও এমফিল এর অংশ হিসেবে দর্শক সম্মুখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে নাটক পরিবেশন করে আসছে। থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের পরিবেশনা ও ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় বার্ষিক নাট্যোৎসব’ উদ্‌যাপিত হয়। এছাড়াও বিভাগে নাট-মণ্ডল মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক প্রযোজনা এবং সেমিস্টার ভিত্তিক প্রযোজনা মঞ্চস্থ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুর দিকে অ্যাকাডেমিক ভাবে নাট্যচর্চা না হলেও নাট্যমনস্ক ছাত্র-শিক্ষক নিজস্ব প্রচেষ্টায় নাটক রচনা ও মঞ্চস্থ করেছেন। এমনকি মুনীর চৌধুরী কবর নাটক কারাবন্দি হিসেবে রচনা ও মঞ্চস্থ করে ইতিহাস তৈরি করেছেন।

দেশ ভাগের পরবর্তীকালে বাংলাদেশের(পূর্ব পাকিস্তান) নাট্যজগৎ ব্যাপক অর্থে সৌখিন ও পেশাদার এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। তৎকালীনসময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিস বা সংস্থার উদ্যোগে বিনোদন ক্ষেত্র হিসেবে নাটক মঞ্চস্থ হত। তবে কিছু থিয়েটার কোম্পানি পেশাদার কার্যসম্পাদনের জন্য থিয়েটার করত। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাট্যদলের কথা বলতে হয় তাহলে ড্রামা সার্কল সেই স্থানে বলা বাঞ্ছনীয়। ড্রামা সার্কল এর জন্ম ১৯৫৬ সালে। ঢাকা থিয়েটারের নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু হেদায়েত হোসাইন মোরশেদকে বলেন, "ড্রামা সার্কল ছিল একটা ইন্সটিটিউট। এ সম্পর্কে আপনারা কিছু লিখুন মোরশেদ ভাই।"৭ ড্রামা সার্কল একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। "নিজস্ব গোষ্ঠীর শিল্পী, নিজস্ব কর্মীদের দ্বারা সেট নির্মাণ, আলোকায়ন, রূপসজ্জা, নাটকের জন্য নিজস্ব কার্পেন্টার বা ওয়ার্কশপ-সব কিছুর একত্রে সমাহার করলো ড্রামা সার্কল।"৮

অভিনেতা ও নাট্যসংগঠক আলী যাকের তার "স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আমাদের নাটক" প্রবন্ধে লিখেছেন, "যে কোন উপনিবেশবাদী সরকারের শাসনামলে কোন শিল্পকর্মই তার সহজাত গতি প্রকৃতি অনুযায়ী চলতে পারে না। নাটকতো নয়ই।" এমন বিবেচনায় বলা যায় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে অ্যাকাডেমিক ভাবে নাট্যকলা বিভাগের চিন্তা আসেনি। তবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য ধারা মাধুর্যময় গতিপথ পেয়েছে। ঠিক এ কথাই আলী যাকের বলেছেন, "স্বাধীনতা আমাদের কি দিয়েছে? স্বাধীনতা আমাদের দিয়েছে মঞ্চনাটকের প্রতি অনুগত একগুচ্ছ ঝজু মেরুদন্ড নির্ভর কর্মী।”৯ ফলে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাটক অ্যাকাডেমিক রূপ লাভ করতে থাকে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা- ‘বেহুলার ভাসান’, নাট্যরূপ ও নির্দেশনা: সৈয়দ জামিল আহমেদ; “দ্য মেজারস টেকেন” (সিদ্ধান্ত), রচনা : বার্টল্ট ব্রেখ্ট, অনুবাদ : ড. শাহমান মৈশান, নির্দেশনা : ড. ইসরাফিল শাহীন।; স্বদেশী নকশা(২০১৩ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের ৫২২ নং কোর্সের প্রযোজনা), নির্দেশক - রহমত আলী; বসন্ত জাগরণ; 'মহুয়া'(মৈমনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে নাটকটি নির্মাণ করেছেন রহমত আলী। মৈমনসিংহ গীতিকা শ্রীদীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত।); চম্পকনগরের উপকথা; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কাব্যনাট্য বিসর্জন, নির্দেশক তানভীর নাহিদ খান; ওয়েটিং ফর গডো, রচনা: স্যামুয়েল বার্কলে বেকেট, অনুবাদঃ আসাদুল ইসলাম, পরিচালনায় ড. ইসরাফিল শাহীন; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নিবেদন ‘উদয়ের পথে এই আলোকতীর্থে’, বিভাগীয় শিক্ষক নাভেদ রহমানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায়, স্বাতকোত্তর ও স্নাতক অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্মিত হয়েছে এই নাট্য পরিবেশনা। ২০১৪ সালের ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম কেন্দ্রীয় বার্ষিক নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। যাতে এই বিভাগের শিক্ষার্থী ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন(ম্যাডাম) নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যকার উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসের লেখা 'ক্যাথলিন নি হুলিহান', ”তাহসীনুর এডওয়ার্ড অ্যালবির 'দ্য জু স্টোরি', তারিক হেনরি গিয়নের 'ফার্স অব দ্য ডেভিলস ব্রিজ', নুসরাত ইউজিন ও'নিলের লেখা 'অয়েল', ইরা ও'নিলেরই আরেকটি নাটক 'ডিজায়ার আন্ডার দি এলম্স' ও মাহবুবুর রহমান মুনীর চৌধুরীর ‘মানুষ’ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন।”১০ ২০১৮ সালের ১৩ তম কেন্দ্রীয় বার্ষিক নাট্য উৎসব ৩-৮ ডিসেম্বর হয়। যাতে ‘রায়বেশে’, নির্দেশনা: অমিত চৌধুরী, স্থান: টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


৪. নাট্যকলা বিভাগে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি।  ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জুলাই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৩ সালে ইংরেজি ও দর্শন বিভাগ চালুর মাধ্যমে কলা অনুষদ তথা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে কলা অনুষদে যে সকল বিভাগ রয়েছে- বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, দর্শন, সংস্কৃত বিভাগ, উর্দু বিভাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, আরবি বিভাগ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সঙ্গীত বিভাগ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ। 'মিউজিক অ্যান্ড ড্রামাটিক্স' বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত বিভাগ যা ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রথম অধিবেশন ২০০০-২০০১ হল 'থিয়েটার' এবং 'মিউজিক' দুটি ধারার অধীনে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের প্রথম সভাপতি(বিভাগীয় প্রধান) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সফিকুন্নবী সামাদী। প্রতিষ্ঠার সময়ে, এটি "সংগীত ও নাট্যকলা বিভাগ" নামে একটি একক ছিল যা ২০১৪ সালের ২৬শে এপ্রিল পৃথক করা হয়েছিল এবং "নাট্যকলা বিভাগ" এবং "সংগীত বিভাগ" এর দুটি পৃথক নামে বিভক্ত হয়েছিল।


পারফর্মিং আর্টের একটি ক্ষেত্র হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ দৃষ্টি উৎস হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং এই দুটির সংশ্লেষণের মাধ্যমে সার্বজনীন থিয়েটার গবেষণা এবং প্রাসঙ্গিকতার সাথে সমসাময়িক শিক্ষাক্ষেত্রের সাথে বৈশ্বিক জ্ঞানের ইতিহাসকে আকর্ষণীয় করে তুলছে। ”ভর্তি কার্যক্রম ও পাঠদান শুরুর দিকে দাপ্তরিক, সাংগঠনিক ও অবকাঠামোগত সুযোগ ও পটভূমি সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষক সফিকুন্নবী সামাদী, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশের কথা সাহিত্যের অন্যতম রূপকার-শিক্ষক হাসান আজিজুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বলয় ও শিল্পোৎসাহী ব্যক্তিবর্গ নেপথ্যে ভূমিকা পালন করেন।”১১ প্রতিষ্ঠার পরের বছর ”২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির মধ্যে নাট্যকলা বিষয়ের শিক্ষক ফরহাদ জামান পলাশকে অব্যাহতি নিতে হয় এবং বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে জনাব সফিকুন্নবী সামাদী পদত্যাগ করেন।”১২ এরপর শিক্ষক শূন্য হয়ে পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। পরে অবশ্য ছাত্রদের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সাল পর্যন্ত নাট্যকলা বিভাগে ৫ জন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ লাভ করে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের লক্ষ্য হিসেবে তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- ”ব্যক্তিগত, আদিবাসী এবং বিশ্বব্যাপী অস্তিত্বশীল সৃজনশীল বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য একটি উপযুক্ত পরিসর তৈরি করা। আর 'থিয়েটার' হল বেস প্ল্যাটফর্ম। সেইসাথে ডিফারেন্ট মিডিয়া সহ সমস্ত সম্ভাব্য রাজ্যে থিয়েটার দক্ষতার জন্য আবেদন করতে সক্ষম।”১৩ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের মত ৪ বছরের স্নাতক সম্মান(ব্যাচেলর অফ পারফর্মিং আর্টস) চালু আছে। এবং ১ বছরের এর স্নাতকোত্তর (মাস্টার অফ পারফর্মিং আর্টস)। এবং রয়েছে এম.ফিল ডিগ্রি(মাস্টার অফ ফিলোসফি) এবং পিএইচ.ডি.। এই বিভাগের পাঠ্যক্রমে, তত্ত্ব এবং ব্যবহারিক উভয় কোর্সের মধ্যে ৬০% ব্যবহারিক এবং বাকিগুলি তাত্ত্বিক। প্রতি বছর বেশ কয়েকটি থিয়েটার প্রযোজনা বিভিন্ন সময়কালের এবং বিভিন্ন ধরনের যেমন- বাংলা নাটক, প্রাচ্যের নাটক, পাশ্চাত্য নাটক, আদিবাসী পরিবেশনা ইত্যাদি সংঘটিত হয় যাতে শিক্ষক ও ছাত্র উভয়ের প্রযোজনা থাকে। বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাকাডেমিক সাধনায় আত্মবিশ্বাসী এবং সন্তুষ্ট হয়ে বিভিন্ন স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রথম প্রযোজনা মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' নাটক। নির্দেশনা দেন ফরহাদ জামান পলাশ। প্রদর্শিত হয় ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের মিলনায়তন নাটমণ্ডলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের নাট্যপ্রযোজনার ইতিহাসে সর্বাধিক ১৭ বার মঞ্চস্থ হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক 'নরকবাস'। এই নাটকেরও নির্দেশনা দেন ফরহাদ জামান পলাশ। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রযোজিত হয় রবীন্দ্রনাথের 'ডাকঘর' যা নির্দেশনা দেন যথাক্রমে ফরহাদ জামান ও 'রথের রশি' নির্দেশনা দেন সফিকুন্নবী সামাদী। ২০০৪ সালে প্রযোজিত হয়- পাশ্চাত্যের আধুনিক ও একই সাথে বাস্তববাদী নাটক রচনার প্রতিভূ হেনরিক ইবসেনের 'এ ডলস হাউজ'। ২০০৬ সালে বিভাগে সেলিম আল দীনের 'যৈবতী কন্যার মন' দুটি পৃথক প্রযোজনা হিসেবে যথাক্রমে নির্দেশনা দেন জাকারিয়া ও আফসানা। “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের নাট্যকলা বিষয়ের প্রযোজনার পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দর্শকসম্মুখে ১৯টি নাটকের মঞ্চায়ন হয়েছে।"১৪


৫. নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়:

”জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট চালু হয়। তখন শুরুর দিকে নাট্যকলা ও সংগীত একটি বিভাগ ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে মীজানুর রহমান ২০ মার্চ ২০১৩ তারিখে যোগদান করেন। তার বিশেষ আগ্রহে একই দিনে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগ নামে ২টি বিভাগ চালু হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে চারুকলা বিভাগ থেকে অনুষদ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের ক্লাস শুরু হয়। বিভাগের কার্যক্রম শুরুর আগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান কামালউদ্দীন কবির স্যার(নাট্যকলা) ও রেজওয়ান আলী স্যার(সংগীত)। “শামস্ শাহরিয়ার কবি স্যার ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে যোগদান করেন।”১৬ শুরুর দিকে চেয়ারম্যান ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লাইসা আহমদ লিসা।  ২০১৫ সালের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ আলাদা হয়। আলাদা হাবার পর নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান হন মো. আব্দুল হালিম প্রামানিক স্যার ও সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান হন অনিমা রায় ম্যাম।”১৫


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউটিলিটি ভবনে একই সঙ্গে নাট্যকলা বিভাগ, সংগীত বিভাগ ও চারুকলা বিভাগ শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা হত বিধায় ক্লাসের সমস্যা ছিল পরে সংগীত বিভাগ ইউটিলিটি ভবন থেকে সরিয়ে নিলেও বর্তমান সময়ে নাট্যকলা বিভাগ ও চারুকলা বিভাগের(বর্তমান অনুষদ) কক্ষ সংকট রয়েছে। এমনকি শিক্ষকদের বসার জন্য রয়েছে কক্ষের সংকট। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে নাট্যকলা বিভাগ তাদের প্রয়োজন মত স্টুডিও/ল্যাব কক্ষ, মঞ্চ ও ক্লাসের জন্য কক্ষ ইত্যাদির চাহিদা তুলে ধরেছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের প্রকল্প কাজ ধীরগতির বিধায় বিভাগ কেন্দ্রিক সমস্যা রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে নাট্যকলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শামস শাহরিয়ার কবির স্যার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ”স্টুডিও থিয়েটার বা ল্যাব কক্ষ, এক্সপেরিমেন্টাল হল দরকার। কিন্তু আমাদের তা নেই। শিক্ষকদের বসার জন্য রয়েছে কক্ষের সংকট। ইসলামিক স্টাডিজের ভাষা শহীদ রফিক ভবনে একটি কক্ষ আছে। সেটি আমাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষও বরাদ্দ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।” বর্তমান সময়ে এসেও ভাষা শহীদ রফিক ভবনের বরাদ্দকৃত শ্রেণিকক্ষ উপযোগী নয়। অবশ্য এ বিষয়ে ২ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক স্যার জানান, ভাষা শহীদ রফিক ভবনের শ্রেণিকক্ষ ক্লাসের উপযোগী করা হবে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের পাঠক্রমে রয়েছে- নাট্যশিল্পের ধারণা, বাংলার গীতরঙ্গ, অভিনয় প্রস্ততি-১(বাচিক, নৃত্য, সঙ্গীত, ইম্প্রোভাইজেশন), শিল্পকলা: পাঠ ও অনুশীলন-১(ডিজাইন, ফর্ম, স্টাইল) ও বাংলঅদেশের মুক্তিযুদ্ধেরে ইতিহাস(১৯৪৭-১৯৭১) ইত্যাদি কোর্স রয়েছে ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারে। আর ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টারে রয়েছে- বাংলা নাট্যের ইতিহাস(১৭৯৫-১৯৪৭), বাংলা নাট্যের ইতিহাস(১৯৪৭-বর্তমান), অভিনয় প্রস্ততি-২(বাচিক, নৃত্য/লাঠিখেলা, সঙ্গীত, ইম্প্রোভাইজেশন), শিল্পকলা: পাঠ ও অনুশীলন-২(ডিজাইন, পোশাক, মেকআপ ও মুখোশ।), নাট্যদৃশ্য নির্মাণ/প্রযোজনা(১২০২ কোর্সের আলোকে) ইত্যাদি কোর্স। ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারে রয়েছে- প্রাচীন ভারতীয় নাট্যতত্ত্ব, প্রাচীন ভারতীয় নাটক, অভিনয় প্রস্তুতি, শিল্পকলার পাঠ ও অনুশীলন(সেট ডিজাইন), নাট্যদৃশ্য নির্মাণ। ৪র্থ বর্ষ ২য় সেমিস্টারে রয়েছে- Theatre Anthropology, টেলিভিশন নাটক প্রযোজনা কেীশল, Psychology of Theatre, থিয়েটার, ইভেন্ট ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থী নাট্য প্রযোজনা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে মঞ্চায়ন হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তাসের দেশ’ নাটক। ২০ অক্টোবর বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জীব কুমার দে’র নির্দেশনায় নাটকটিতে অভিনয়ে করেন বিভাগের ৫ম ও ৮ম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা। নাট্যকলা বিভাগের উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা- ক্রিস্টোফার মার্ল‘র ‘ডক্টর ফস্টাস’, নির্দেশনায়: ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন ম্যাডাম; ’বিদ্রোহী মাইকেল মধুসূদ’, পালাকার : বিধায়ক ভট্টাচার্য্য , নির্বাহী নির্দেশনা : কামালউদ্দিন কবির স্যার; ’স্যার, একটু বাইরে আসবেন’, নির্দেশনায়: রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা ম্যাম ও কৃপাকণা তালুকদার ম্যাম; ’রক্তকরবী’, বিনির্মান ও পরিকল্পনা: কৃপাকণা তালুকদার ম্যাম; আগাঁথা ক্রিস্টি’র ’দা মাউসট্র‌্যাপ’, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা: আফরিন হুদা ম্যাম; উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ’এ মিড সামার নাইট'স ড্রিম’, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা: সঞ্জীব কুমার দে স্যার; সফোক্লিসের ‘এন্টিগোনি’, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা: রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা ম্যাম। এছাড়াও ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন ম্যাডাম মরিস ব্যারিং এর ৭টি নাটক অনুবাদ করেছেন। সেই নাটক থেকে কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ করেছে নাট্যকলা বিভাগের ১ম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা।

”জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অর্থাৎ ২০২০ সালে নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে প্রথমবার নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।”১৭ কিন্তু পরবর্তী সময়ে নাট্যোৎসবের আয়োজন দেখেনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় মহামারি করোনার প্রকোপকে। তবে বড় পরিসরে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয়বারের মতো নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০২৪ সালের ২৮, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তিনদিনব্যাপী উৎসব চলে। প্রতিদিন দুইটি করে মোট ছয়টি নাটক প্রদর্শিত হয়। সেই সকল নাটক শিক্ষার্থী নির্দেশিত নাটক। নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন ম্যাডামের সভাপতিত্বে উৎসবটি উদ্বোধন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম এবং উদ্ধোধনী নাট্যভাষণ প্রদান করেন নাট্যব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর। নাট্যোৎসবে মোহাম্মদ খোরশেদ আলম রচিত নাটক 'রাধামন ধনপতি', ওরিয়ানা ফাল্লাচি রচিত নাটক 'লেটার টু এ চাইল্ড নেভার বর্ন', মন্মথ রায় রচিত নাটক 'রক্তকদম', বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক 'তপস্বী ও তরঙ্গিনী', অগাস্ট স্ট্রিন্ডবার্গ রচিত নাটক 'মিস জুলি' ও মন্মথ রায় রচিত নাটক 'যমালয়ে একবেলা' নাটক মঞ্চস্থ হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগে ঢাকায় কয়েকটি নাট্যমঞ্চ নির্মিত হয়, যেমন: পূর্ববঙ্গ রঙ্গভূমি (১৮৬৫), ক্রাউন থিয়েটার মঞ্চ (১৮৯০-৯২ এর মধ্যে), ডায়মন্ড জুবিলি থিয়েটার (১৮৯৭) ইত্যাদি। এই সকল নাট্যমঞ্চের অবস্থান ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে তথা পুরান ঢাকায়। নাট্যকলা বিভাগের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে পুরান ঢাকার নাট্যচর্চা নামে কোর্স বা সাব-কোর্স পড়ানো হয়। যার ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ অন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সতন্ত্র অবস্থানে রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ থেকে কোন প্রকাশনা না বের হলেও বিভাগের শিক্ষকরা কলা অনুষদের প্রকাশিত জার্নালে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত জার্নালে তাদের লেখা প্রকাশ করেন। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রধান ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন ম্যাডাম বিভাগ কেন্দ্রিক জার্নাল বা ম্যাগাজিন প্রকাশের কথা ভাবছেন।


৬. থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ সাতটি বিভাগ রয়েছে- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, সঙ্গীত বিভাগ, নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগ, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, দর্শন বিভাগ এবং ইতিহাস বিভাগ। ২০০৯ সালে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ চালু হয়।

২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগে জিয়া হায়দার, সেলিম আল দীন নামে দুটি থিয়েটার ল্যাব উদ্বোধন করেন মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। এর পাশাপাশি বিভাগে হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু নামে বঙ্গবন্ধু কর্নার, দীনেশচন্দ্র সেন নামে সেমিনার লাইব্রেরি ও সৈয়দ জামিল আহমেদ ডিজাইন ল্যাবের নামকরণ করা হয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়েন সাবেক উপাচার্য আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি কালচারাল হাব তৈরি করা হবে। ওখানে চারুকলাসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব একটা জগৎ তৈরি করতে পারবে।”১৮


থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের যুগপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় “নবযুগের আবাহন, নাট্য শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র প্রসারণ’ শীর্ষক ৫ দিনব্যাপি প্রথম আন্তর্জাতিক নাট্যকর্মশালা ও নাট্যোৎসব '২২। “থিয়েটার ফর থেরাপি(TfT)” বিষয়ক কর্মশালা, “অন্তরঙ্গ নাট্য” বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। যেখানে ভারত থেকে আগত বিকল্প ধারার নাট্য নির্দেশক সুপ্রিয় সমজদার “অন্তরঙ্গ নাট্য” বিষয়ক কর্মশালা করান। উক্ত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ থিয়েটার আর্কাইভস এর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ড. বাবুল বিশ্বাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এর বিভাগীয় প্রধান ড. ইস্রাফিল আহমেদ রঙ্গণসহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এর সম্মানীত শিক্ষকবৃন্দ।


অন্য সকল নাট্যকলা বিভাগের মত তত্ত্বীয় থেকে শুরু করে ব্যাবহারিক, পাশ্চাত্য সাহিত্য থেকে প্রাচ্য, ইতিহাস থেকে দর্শন, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য, নাট্য মনোবিজ্ঞান, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, কম্পিউটার লিটারেসি ইত্যাদি কোর্স পড়ানো হয়ে থাকে। সিলেবাসের প্রায় ৫০ শতাংশ তত্ত্বীয় এবং ৫০ শতাংশ ব্যাবহারিক। কমবেশি হতে পারে। নাট্য রচনা, নাট্য নির্দেশনা, অভিনয় কলা, মার্শাল আর্ট, মঞ্চসজ্জা, দৃশ্যসজ্জা, রূপসজ্জা, কস্টিউম ডিজাইন, থিয়েটার সেট ডিজাইন, লাইট ডিজাইন, প্রপোজ মেকিং, সাউন্ড, প্রডাকশন ম্যানেজমেন্ট, অডিও ভিজ্যুয়াল প্রডাকশন মেকিং, টিভি নাটক নির্মাণ ইত্যাদি প্রায়োগিক ও তাত্ত্বিকভাবে শেখানো হয়।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগ মঞ্চস্থ করে গ্রিক পুরাণের তিনটি গল্প সংকলিত নাটক 'এথেন্স কাব্য'। নির্দেশনায় ছিলেন বিভাগের শিক্ষক নুসরাত শারমিন। অভিনয় করেন স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষ ও স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হায়দার থিয়েটার ল্যাবে নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। ২০২৩ সালে জুন মাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ৩ দিনব্যাপী নাটকের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নাট্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মামুন রেজার নির্দেশনা পরীক্ষা প্রযোজনা হিসেবে মহাকবি ভাস রচিত নাটক ‘স্বপ্নবাসবদত্তা’ মঞ্চস্থ হয়েছে। ”২০২৪ সালের ১ অক্টোবর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হায়দার থিয়েটার ল্যাব এ মঞ্চস্থ হয় ১৭০ বছর আগে রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত বাংলা ভাষায় প্রথম সামাজিক মৌলিক নাটক 'কুলীন কুলসর্বস্ব', পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মুশফিকুর রহমান (হীরক মুশফিক)।”১৯ নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিস, ইইই, সংগীত, নৃবিজ্ঞান এর মতো বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অর্থাৎ থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের বাহিরে গিয়েও নাট্যচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন যেীথ কাজে। এতে করে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও জানার সুযোগ থাকে নাট্যকলার নেপথ্যের কাজ দেখার ও জানার।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি পিয়ার-রিভিউ গবেষণা জার্নাল হল ’নাট্যবিদ্যা’। নাট্যকলা, সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, ফোকলোর, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম প্রভৃতি বিষয়ক গবেষণামূলক মৌলিক প্রবন্ধ প্রকাশ করা যায়। এতে দেশবিদেশের শিক্ষক, গবেষক ও গবেষণা শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় রচিত শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক লেখা প্রকাশ করেন।


বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্পর্কিত কোর্স:

নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র এই সূত্রে গাঁথা। একজন অভিনেতা যদি তৈরি হয় নাট্যকলার মাধ্যমে তাহলে তার সীমাবদ্ধতা মঞ্চ কেন্দ্রিক না রেখে পরিধি বাড়ানো দরকার। এতে করে চলচ্চিত্র জগৎ একজন ভালো অভিনেতা পাবেন। যারা মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন তাদের নিয়ে কখনো রুচির দুর্ভিক্ষের প্রশ্ন ওঠে না। এই রুটির প্রশ্নে হলেও নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র এক সূত্রে গেঁথে দেখতে হবে। এমন ধারণা থেকেই বোধ হয় ফরাসি লেখক, নাট্যকার, শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জঁ মরিস ইউজিন ক্ল্যেমেন্ত ককতো(৫ই জুলাই, ১৮৮৯ - ১১ই অক্টোবর, ১৯৬৩) নিজের রচিত নাটকের ভিত্তিতে তার ৩য় চলচ্চিত্র হিসেবে ‘লাগলে অ দ্যু তেতে”(১৯৪৮) ও ৪র্থ চলচ্চিত্র হিসেবে ’লে পেঁরা তেরিবল’(১৯৪৮) বানালেন। তবে একজন নাট্যকলার শিক্ষার্থী যে কোনো পেশা গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু বাস্তবিক শিক্ষা কাজে লাগানোর জন্য কর্মক্ষেত্র হিসেবে চলচ্চিত্র মাধ্যম বা ব্যাপক অর্থে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় যুক্ত হতে পারে। নাট্যকলা ও  ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংযুক্তি স্থাপনের জন্য রয়েছে ঐ সংক্রান্ত কোর্স। এরই সপক্ষে সেলিম আল দীনের বক্তব্য হলো, "আমাদের এখানে ভিডিওর একটা ব্যাপারও রয়েছে। আমরা Electronic media- তে কাজ করে থাকি। সেই Electronic media- এর শিক্ষা কার্যক্রমও আমরা Introduce করেছি থিয়েটারের পাশাপাশি। এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই যে, পারফর্মিং আর্টস-এর মঞ্চরূপ যেমন রয়েছে, তেমনি Electronic media- তেও তার একটি বিরাট জায়গা আছে।"২০


সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে প্রতিটি বর্ষে বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ হয় বিভাগের প্রযোজনায়। সেখানে দর্শনীর বিনিময়ে অথবা কোন কোন সময় বিনামূল্যে দর্শক দেখতে পারেন বিভাগের মঞ্চস্থ নাটক। দর্শকদের মাঝে যখন কোনো শিক্ষার্থী মঞ্চে অভিনয় করে তখন সেই শিক্ষার্থী যোগাযোগের সেরা অবস্থা তৈরি করতে পারে। এতে করে বাহির থেকে আসা দর্শক একজন নাট্যকলার শিক্ষার্থীর কার্য অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারে। অর্থাৎ কে অভিনয়ে, মেকআপে, লাইটিংয়ে, সেট ডিজাইনে, সংগীতে দক্ষ তা অনুধাবন করতে পারে দর্শক। ফলে শিক্ষার্থীদের একটা পরিচয় তৈরি হয় এবং অ্যাকাডেমিক জীবন শেষে কর্মজীবনে পদার্পণের সূচনাতে অনেকাংশে চাকরির জন্য দিশেহারা হতে হয় না। একই সাথে ব্যবহারিক দিকে যেমন গুরুত্ব দেয়া হয় তেমনি তাত্ত্বিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়। এতে করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সাহিত্য অংশে বেশ এগিয়ে থাকে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একাডেমিকভাবে নাট্যচর্চার অগ্রগতির জন্য যদি আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ সংযুক্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয় হিসেবে নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাহলে একাডেমিকভাবে নাট্যচর্চা আরো সুদূরপ্রসারী হবে।


তথ্যসূত্র:

১. প্রবন্ধ: নাট্যযুধিষ্টির জিয়া হায়দার থেকে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন- মোস্তফা কামাল যাত্রা। (https://www.facebook.com/groups/215488308804951/permalink/1355121064841664/)

২. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা - ১২: পরিবেশনা শিল্পকলা, পৃষ্ঠা ৩১৪।

৩. https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article424064.bdnews

৪. https://dainikazadi.net/%E0%A6%9A%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9F/

৫. https://www.facebook.com/photo?fbid=1331425107028442&set=gm.994158854271222

৬. Syllabus for BA Honours Course, Department of Theatre and Performance Studies, University of Dhaka.

৭. ড্রামা সার্কল: প্রসঙ্গ কথা এবং একক বজলুল করিম, হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ, বাংলাদেশের নাট্যচর্চা, পৃষ্ঠা ২০৮

৮. ড্রামা সার্কল: প্রসঙ্গ কথা এবং একক বজলুল করিম, হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ, বাংলাদেশের নাট্যচর্চা, পৃষ্ঠা ২১২

৯. স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আমাদের নাটক, আলী যাকের, বাংলাদেশের নাট্যচর্চা, পৃষ্ঠা ১৬০।

১০. https://www.kalerkantho.com/feature/campus/2014/02/05/48709

১১. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা - ১২: পরিবেশনা শিল্পকলা ৩১৮।

১২. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা - ১২: পরিবেশনা শিল্পকলা ৩১৯।

১৩. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।

১৪. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা - ১২: পরিবেশনা শিল্পকলা ৩১৯।

১৫. কামালউদ্দিন কবির স্যার, মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার, মুহাম্মদ আল ইমরান।

১৬. https://shampratikdeshkal.com/print/20029792

১৭. https://www.dailysokalersomoy.com/news/88455

১৮. নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগে ল্যাব উদ্বোধন (https://www.swadeshpratidin.com/news/87804)

১৯. https://www.newsg24.com/education-news/11216/

২০. এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা - ১২: পরিবেশনা শিল্পকলা ৩১২।


কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি কোর্স শিক্ষকের প্রতি-

কৃপাকণা তালুকদার ম্যাম

প্রভাষক,

নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। 


লেখক: মুহাম্মদ আল ইমরান

শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Comments

  1. সুন্দর ও গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। বুঝতে একদমই অসুবিধা হয়নি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

    ReplyDelete

Post a Comment