Skip to main content

কবিতা: হেমন্তে দেখা।

কবিতা: হেমন্তে দেখা।

লেখক: মুহাম্মদ আল ইমরান।


জীবনের বিচিত্র অদ্ভুত সময়ের উপস্থাপনা

অন্তরিন্দ্রিয়ের সন্তুষ্টি এনেছে।

বলে কামিনী- "আমি প্রয়োজন বোধ করি না।"


হে কামিনী,

তুমি অনেক পরিপাটি থাকো। যেন প্রতিদিন

আমার মন জয়ের নেশা তোমাকে তাড়া করে।

তুমি আমার মন জয় করেছিলে সেদিন,

যেদিন তুমি আমায় ডেকেছিলে একা নিরিবিলি।


হেমন্তে-

দেখেছিলাম শত বৃক্ষের মাঝে পুষ্প তুমি!

ঐ বৃক্ষ আমাকে বলেছে, পুষ্পকথা।

ঐ বৃক্ষ বলেছে, তুমি আমার কথা ভাবো।

ঐ বৃক্ষ বলেছে, ঢোল হাতে একা অবচেতন

মনে, তুমি বসো আমার মনের আসর জমাতে।

হেমন্তের শিউলি, গন্ধরাজ, কামিনী এবং তুমি-

এক বাগানের নবীন ফুল।


দূরবর্তী সম্পর্ক কাছে পাওয়ার

আকাঙ্ক্ষায় আছি।

"এই বাগানে অনাকাঙ্ক্ষিত তোমার তোমার প্রবেশ।"

আমার কাছে পুষ্প তুমি।

"কেমন পুষ্প?"

সেই পুষ্প শ্যামা বর্ণের, কালো চুলের,

কপালে ছোট টিপ পরা, গলায় মালা,

আকাশ নীল শাড়িতে, সুন্দর চোখের

আর আমার পছন্দের ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী।

"আমি পুষ্প?"

হ্যাঁ। তুমি আমার পুষ্প, আমি তোমাকে ভালোবাসি।

"অযথা কথা পছন্দ করি না।"


হেমন্তের কোন একদিনে-

বিকাল ৪ টা ১৭ মিনিটে, 

সবুজ বাংলার সোনালী ফসলের প্রান্তে ক্লান্ত তুমি,

পাশের পুরুষ তোমাকে দ্যাখে না। 

দূর হতে কবিতার বইয়ের আড়ালে তোমার পানে তাকিয়ে-

তোমাকে দেখি, দেখি তোমার মনকে।

সন্ধ্যা নামার আগে,

অতিশয় শ্রান্ত তুমি বিশ্বস্ত আশ্রয় খুঁজো!

কল্পলোকে আমি তোমার পাশের, তোমার আশ্রয়।

তুমি আমার কাঁধে মাথা রেখে 

শক্তিসঞ্চয় কর। 


সকালে স্কুলের মাঠে শিশির ভেজা ঘাস আর কুয়াশা জানান দেয় শীতের আগমনী বার্তা।

খালি পায়ে তোমার হাতে হাত রেখে

হেঁটে চলি- পথের শেষে যে নতুন পথ আসে।


হেমন্ত যেমন করে এসে শীতের মাধুর্যময় আবহ সৃষ্টি করে তেমন করে তুমি আমাদের ভালোবাসার আরম্ভ করবে। 


"কি হলো তোমার?"

না তো কিছু হয় নি। 

নর্থ সাউথ রোডে হেমন্তে তোমার সঙ্গে দেখা

তুমি ঢাকার ঐতিহ্য রিকশায় আর আমি মানুষের ঐতিহ্য- পায়ে চলছি।


পাগল হইতে সাবধান!

মালিটোলা পার্কে এমন সাইনবোর্ড বিশেষ প্রয়োজন! 

হেমন্তের প্রকৃতিতে তোমার সঙ্গে দেখা। 

ইংলিশ থেকে জনসন রোড কিংবা পুরান ঢাকার

কোন ঐতিহাসিক স্থাপনা যেমন টিকে আছে ইতিহাস নিয়ে।

তেমনভাবে হেমন্তের বিকালে তোমার সঙ্গে দেখা করার শুভ বোধ বেঁচে থাকবে-

প্রাণে!


আমি তোমাকে ভালোবাসি বইয়ের মত,

আর তুমি আমাকে ভালোবাসবে বৃক্ষের মত!

নতুন বইয়ের ঘ্রাণ যেমন মিষ্টি তেমনি পুরানো বই স্মৃতি।

বই নতুন কিংবা পুরাতন হোক না কেন

বই গ্রহণ করা যায়, পড়া যায়, ভালোবাসা যায়।

আর বৃক্ষ! 

বৃক্ষ আমাদের ছায়াতলে আগলে রাখে।

যে বৃক্ষ ভালোবাসে সে পৃথিবী বাঁচিয়ে রাখে।

তুমি আমাকে বৃক্ষের মত ভালোবেসে

আমাদের ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখবে।

আমাদের ভালোবাসা থাকবে হেমন্ত থেকে হেমন্ত বহমান।

Comments