Skip to main content

হুমায়ূন আহমেদ প্রসঙ্গে - মুহাম্মদ আল ইমরান



হুমায়ূন আহমেদ আমার জীবনে বই পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন। মনীষীরা বলেন, বই পড়ো, বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো। আমি বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পেরেছি। হাসি কান্না ভাগ করে নিতে পেরেছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের জন্য। মূলত আমার একাডেমিক বইয়ের বাহিরে বই পড়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল তার লেখা 'আমার ছেলেবেলা' পড়ে। বইটিতে তিনি তার জীবন তুলে ধরেছেন। বইটি পড়ে তার জীবনে নিজেকে উপলব্ধি করতে পেরেছি। এখন যখনই নতুন বই হাতে নেই তখন আমি প্রথম বই পড়ার কথা স্মরণ করি। এমনকি মানুষকে আমি উহার দিলে ৩টি বই উপহার দেই। তার মধ্যে ‘আমার ছেলেবেলা’ একটি। অন্য দুইটি হলো- এরিস্টটলের পোয়েটিক্স, ক্যাথরিন পিউরীফিকেশন ম্যাডামের অনুবাদ করা বই, ক্যাথরিন পার ও অন্যান্য।

 

হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রখ্যাত যাদুশিল্পী, বাঁশি বাদক ও চিত্রশিল্পী জুয়েল আইচ তাকে উৎসর্গ করা বইটির উৎসর্গ অংশ তুলে ধরেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এভাবে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন,

"জুয়েল আইচ-

জাদুবিদ্যার এভারেস্টে যিনি উঠেছেন।

এভারেস্ট বিজয়ীরা শৃঙ্গবিজয়ের পরে নেমে আসেন। ইনি নামতে ভুলে গেছেন।"

হুমায়ূন আহমেদের লেখায় একটা প্রাণ আছে। সেই প্রাণ আঁকড়ে ধরে অনেক পাঠক জীবন আছেন। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। বর্তমান সময়ে এসেও ভালো নাটকে বা রুচিশীল নাটক বলতে  হুমায়ূন আহমেদের পরিচালিত নাটকের কথা চলে আসবে। ভালো লাগার প্রতি গুরুত্ব দিতে গিয়ে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে।

 

হুমায়ূন আহমেদ নামটি কার নিকট কিরকম বা তিনি লেখক হিসেবে কেমন? আমি এই বিচার করি না। আমার কাছে তার লেখা সহজ মনে হয়। কেননা বাস্তব জীবনকে খুঁজে পাই তার লেখায়। তার লেখা পড়ে কখনও মনে হয়নি যে আমি কোনো কঠিন সাহিত্য পড়ছি। তিনি জীবনের জটিলতম বিষয়গুলোকেও এমন সহজ, সাবলীল এবং সরস ভাষায় তুলে ধরেছেন যে, মনে হয় যেন তিনি আমার পাশের বাড়ির কেউ, যিনি বসে বসে গল্প শোনাচ্ছেন। এই সরলতার আড়ালে যে গভীর জীবনবোধ লুকিয়ে থাকে, তা আমাকে বারবার মুগ্ধ করে। পরিচালক হিসেবেও তিনি বেশ পছন্দের। সাহিত্যকে কেবল বইয়ের মধ্যে আটকে না রেখে, তিনি তার চলচ্চিত্র ও নাটক দিয়ে কোটি কোটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। তার নাটক 'আজ রবিবার' বা 'কোথাও কেউ নেই'—এগুলো কেবল বিনোদন ছিল না, ছিল আমাদের সমাজের অসঙ্গতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া। বর্তমান সময়ে নাটক দেখতে বসলে চিন্তা করতে হবে কে বা কারা আছে ব্যক্তির পাশে। পরিবার নিয়ে নাটক দেখা দুষ্কর। এ প্রসঙ্গে কতিপয় অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়, নাটক থেকে শিখবে কেন? তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, তাহলে সমাজের দর্পণ কি ভেঙে গেল? যত কথাই বলি না কেন! এই কথার কোন শেষ নেই। কিন্তু "আজ রবিবার" নাটক বারবার দেখলেও মনে প্রশান্তি আসে। যেমন প্রশান্তি আসে মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখে। হুমায়ূন আহমেদের নাটকের জনপ্রিয়তা এখনও কমেনি বরং বেড়েছে। বর্তমান সময়েও শোনা যায় হুমায়ূন আহমেদের নাটকের প্রসংশা। তার রচিত ও পরিচালিত নাটকে পাওয়া যায় সহজ ভাষা। নাটক যে সমাজের দর্পণ স্বরুপ তার প্রমাণ হুমায়ূন আহমেদের নাটকগুলো। পৃথিবীর সমস্ত লেখা দিয়েও হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যের মাধুর্য বর্ণনা করা যাবে না। এ যেন তার ঐতিহ্য!

 

লেখক: মুহাম্মদ আল ইমরান।

নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

Comments