প্রামাণ্যচিত্র: বাবার স্মৃতি ও আমার আগামী



আমার চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের এই যাত্রার পেছনে জড়িয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে আবেগময় এবং অনুপ্রেরণাদায়ক একটি অধ্যায়। তখন আমি স্কুলে পড়ি, বয়সে তরুণ, কিন্তু চোখে নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন। সেই স্কুলপড়ুয়া বয়সেই, ২০১৮ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে নির্মাণ করি আমার জীবনের প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘পটুয়াখালীর বিজয়’। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরম পাওয়া হলো, আমার বাবা আমার সেই প্রথম সৃষ্টি, আমার সেই শুরুর দিনগুলো নিজের চোখে দেখে যেতে পেরেছিলেন।

তার পরের বছরই, ২০১৯ সালে বাবা আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে যান। বাবার এই আকস্মিক চলে যাওয়া আমার জীবনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু আজ তিনি শারীরিকভাবে পাশে না থাকলেও, তার সেই স্নেহময় দৃষ্টি আর অনুপ্রেরণা আমার প্রতিটি কাজের শক্তি হয়ে আছে।

বাবার মৃত্যুর পর, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে আমি আমার দ্বিতীয় প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করি। এটি ছিল আমার একজন শ্রদ্ধেয় কলেজ শিক্ষককে নিয়ে, যার নাম ‘গাজী সামিয়া সুলতানা’। একজন আদর্শ শিক্ষকের জীবন, ত্যাগ এবং তার ভেতরের মানবিক গল্পটিকে আমি এই প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

এই কাজটি করার সময় প্রতি মুহূর্তে আমার মনে হয়েছে, আমি কেবল একটি তথ্যচিত্র বানাচ্ছি না, বরং আমার বাবার দেখে যাওয়া সেই স্বপ্ন আর কাজকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তিনি আজ নেই, কিন্তু তিনি যে কাজের সূচনা দেখে গিয়েছিলেন, সেই কাজকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে আজীবন করে যাওয়াটাই এখন আমার জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য ও বাবার প্রতি আমার শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আমার কাছে এখন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ কেবলই শিল্প বা ক্যারিয়ার নয়, এটি আমার অস্তিত্বের অংশ। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধরে রাখার তাগিদ, অন্যদিকে গুণী মানুষদের জীবনকে পর্দায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা—এই দুই অভিজ্ঞতাই আমাকে সমৃদ্ধ করেছে।

এই পথচলা এখানেই থেমে নেই। বর্তমানে আমি বেশ কয়েকটি নতুন প্রামাণ্যচিত্রের কাজ করছি। গবেষণার কাজ প্রায় শেষ, খুব শীঘ্রই এগুলোর বিস্তারিত সবার সামনে প্রকাশ করব। আমি বিশ্বাস করি, দূর আকাশ থেকে বাবা সবসময় আমাকে দেখছেন এবং তার সেই স্কুলপড়ুয়া ছেলেটি যেন আজীবন এই সত্যের পথেই নতুন নতুন গল্প বুনে যেতে পারে, এটাই এখন আমার একমাত্র সাধনা।

[আরো লিখব...]


লেখা: মুহাম্মদ আল ইমরান (Muhammad Al Emran)

শিক্ষার্থী, নাট্যকলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।